নাজীর আহম্মেদ খান| কালবিন্দু| শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
প্রতিবেদন: কালবিন্দু
আধুনিক কর্মজীবনের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ‘সেডেন্টারি লাইফস্টাইল’—অর্থাৎ সারাদিন চেয়ারে বসে থাকা। অফিসে ৮–১০ ঘণ্টা বসে কাজ করার ফলে অনেকেরই কোমর, ঘাড়, পিঠ ও চোখে সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি ওজন বেড়ে যায়, ক্লান্তি বাড়ে, মনোযোগ কমে যায়। অথচ সামান্য সচেতনতা ও কিছু নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তুললে অফিসের মাঝেই নিজেকে ফিট রাখা সম্ভব।
দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ৫ মিনিট উঠে দাঁড়ান, কিছুটা হাঁটুন। অফিসের ভেতরেই ছোট্ট একটি রাউন্ড হাঁটা রক্তসঞ্চালন সচল রাখে ও ঘুমভাব দূর করে। অনেকে চায়ের বিরতি বা ফোনকলের সময় দাঁড়িয়ে কথা বলার অভ্যাস করতে পারেন।
অধিকাংশ অফিসকর্মীর কোমরব্যথার মূল কারণ হলো ভুল ভঙ্গিতে বসা। চেয়ারে বসার সময় পিঠ সোজা রাখুন, কাঁধ আরামদায়কভাবে রাখুন, এবং কম্পিউটার মনিটর চোখের সমান উচ্চতায় রাখুন। নিচে ছোট একটি কুশন দিলে কোমর স্বস্তি পায়।
হালকা স্ট্রেচিং ব্যায়াম অফিস ডেস্কে বসেই করা যায়। ঘাড় একদিকে ঘোরানো, কাঁধ ঘোরানো, কবজি ও আঙুলের ব্যায়াম রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। দিনে কয়েকবার এমন ছোট ব্যায়াম করলে ক্লান্তি কমে এবং শরীর চনমনে থাকে।
অফিসে কাজের চাপে অনেকেই পানি পান করতে ভুলে যান। অথচ শরীরে পানির অভাব ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং মনোযোগ কমার কারণ হতে পারে। নিজের ডেস্কে একটি পানির বোতল রাখুন এবং প্রতি ঘণ্টায় অল্প অল্প করে পানি পান করুন।
অফিসে অনেকেই ফাস্টফুড বা অতিরিক্ত চা–কফি খেতে অভ্যস্ত। এগুলো শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। এর পরিবর্তে ফল, বাদাম, দই বা সালাদ খাওয়ার অভ্যাস করুন। দুপুরের খাবারে তেল–মসলাযুক্ত খাবার কমিয়ে দিন। এতে শরীর হালকা ও কর্মক্ষম থাকে।
লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা একটি দারুণ ব্যায়াম। এটি পায়ের পেশি মজবুত করে, ক্যালরি পোড়ায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। অফিসে যদি ২–৩ তলা উঠতে হয়, সেটি সিঁড়ি দিয়েই করুন।
অফিসের চাপ বা সময়সীমার মধ্যে কাজ করতে গিয়ে অনেকের মানসিক চাপ বেড়ে যায়। ৫–১০ মিনিটের জন্য চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া, ছোট বিরতি নেওয়া, কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে হাস্যরস করা মানসিক প্রশান্তি আনে। মনে রাখুন, মানসিক ফিটনেসও শারীরিক ফিটনেসেরই অংশ।