নাজীর আহম্মেদ খান| কালবিন্দু| শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
প্রতিবেদন: কালবিন্দু
শরীরচর্চা, ব্যায়াম ও ফিটনেস নিয়ে আমরা যতই সচেতন হই না কেন, দুটি মৌলিক বিষয়কে অনেক সময় অবহেলা করি—ডায়েট ও ঘুম। অথচ এই দুটি অভ্যাসই আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নির্ধারণ করে। সঠিক ডায়েট এবং পর্যাপ্ত ঘুম না থাকলে শরীরচর্চার ফলও অনেকাংশে ব্যর্থ হয়। ফিটনেস শুধু মেদ ঝরানো নয়; এটি একটি সম্পূর্ণ জীবনধারা, যেখানে খাদ্য ও বিশ্রাম সমান গুরুত্বপূর্ণ।
পুষ্টিবিদরা বলেন:
প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাটের ভারসাম্য থাকতে হবে।
সকালে জটিল কার্বোহাইড্রেট (যেমন ওটস, ব্রাউন ব্রেড, ডালিয়া) খেলে সারাদিন শক্তি থাকে।
দুপুরে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার (ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল) শরীরের পেশি রক্ষা করে।
রাতে হালকা ও কম তেল–মসলা খাবার খেলে হজম ভালো হয়।
চিনি, সফট ড্রিংকস, ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। এগুলো শুধু ওজন বাড়ায় না, শরীরের হরমোন ভারসাম্যও নষ্ট করে।
যারা নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম পান না, তারা ধীরে ধীরে ক্লান্তি, মানসিক চাপ, ওজন বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের সমস্যায় ভোগেন।
ঘুম উন্নত করার টিপস:
ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল বা টিভি স্ক্রিন বন্ধ করুন।
ঘুমের আগে চা-কফি পরিহার করুন।
হালকা সঙ্গীত, বই পড়া বা মেডিটেশন ভালো ঘুমে সহায়ক।
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
খাদ্যাভ্যাস ও ঘুম একে অপরের পরিপূরক।
ঘুমের অভাব গ্রেলিন (Ghrelin) হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা ক্ষুধা বাড়ায় এবং অপ্রয়োজনে খেতে ইচ্ছে করে।
অন্যদিকে পর্যাপ্ত ঘুম লেপটিন (Leptin) হরমোন বাড়ায়, যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
আবার রাতে ভারী খাবার খেলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে, হজমে সমস্যা হয়, ফলে সকালে ক্লান্ত লাগে।
অর্থাৎ, ভালো ডায়েট ভালো ঘুমের ভিত্তি, আর ভালো ঘুম শরীরের জন্য ডায়েটের কার্যকারিতা বাড়ায়।
ফিটনেস বজায় রাখতে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা দরকার—
সকাল: হালকা ব্যায়াম ও পুষ্টিকর নাশতা
দুপুর: পরিমিত প্রোটিন ও শাকসবজির খাবার
বিকাল: হালকা ফল বা বাদাম
রাত: হালকা ডিনার ও নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম
ঘুম: প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম
এই রুটিন নিয়মিত অনুসরণ করলে শরীর শুধু ফিট থাকে না, মনও থাকে প্রফুল্ল ও শক্তিতে ভরপুর।