প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০৮ এ এম || প্রকাশের তারিখঃ শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৬:৫২ এ এম
পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে: বিশেষ যত্নের ৫টি পরামর্শ।
নাজীর আহম্মেদ খান| কালবিন্দু| শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
গরম, বৃষ্টি ও শরতের মিশ্র আবহাওয়ায় শিশুরা সহজেই ঠান্ডা-জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সেলিনা সুলতানার পরামর্শে জেনে নিন শিশুর যত্নের ৫টি কার্যকর উপায়।
বর্তমানে আবহাওয়া একেবারেই অনিশ্চিত— সকালে গ্রীষ্ম, বিকেলে বর্ষা আর রাতে শরতের আমেজ। এই পরিবর্তনশীল জলবায়ুর কারণে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে। বিশেষত, ঠান্ডা-জ্বর-কাশি, গলা ব্যথা ও ত্বকের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই ছোটরা।
শিশুদের সঠিক যত্নে রাখার জন্য অভিভাবকদের সচেতনতার বিকল্প নেই। চিকিৎসকরা বলছেন, এ সময় শিশুর পোশাক, খাবার, বিশ্রাম ও পরিচ্ছন্নতায় বাড়তি মনোযোগ দিতে হবে।
১. আরামদায়ক পোশাক:
শিশুরা সারাক্ষণ ছোটাছুটি করে, ফলে তাদের শরীরে ঘাম বেশি হয়। তাই সবসময় হালকা সুতির ও বাতাস চলাচল উপযোগী পোশাক পরানো জরুরি। ঘেমে গেলে দ্রুত পোশাক পরিবর্তন করে দিতে হবে।
২. নিয়মিত গোসল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা:
বাইরে থেকে ফিরে সঙ্গে সঙ্গে নয়, কিছু সময় পরে গোসল করানো উচিত। নিয়মিত গোসল শিশুর শরীরকে জীবাণুমুক্ত রাখে। পানিতে অল্প অ্যান্টিসেপটিক লিকুইড বা নিমপাতা মেশানো যেতে পারে।
৩. ফ্যান ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ:
শিশুর শরীর ঘেমে থাকলে জোরে ফ্যান চালানো ক্ষতিকর। হালকা বাতাসই যথেষ্ট। অতিরিক্ত ঠান্ডা বাতাসে শিশুর সর্দি-কাশি হতে পারে।
৪. ঠান্ডা পানি ও পানীয় এড়িয়ে চলা:
অনেক শিশুই গরম থেকে এসে ঠান্ডা পানি বা আইসক্রিম খেতে চায়। কিন্তু হঠাৎ ঠান্ডা পানি পান করলে গলা ব্যথা ও জ্বরের আশঙ্কা বাড়ে। তাই শিশুকে স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা কুসুম গরম পানি খাওয়ানো উচিত।
৫. সংক্রমণ ও ত্বকের যত্ন:
রোগ সংক্রমণ রোধে শিশুদের মুখে মাস্ক ব্যবহারে অভ্যস্ত করা দরকার। ঠান্ডা, কাশি বা গলা ব্যথায় আদা-লেবু চা, তুলসীপাতার রস বা মধু খাওয়ানো যেতে পারে। শিশুর ত্বক সংবেদনশীল হওয়ায় বেবি অয়েল, ক্রিম বা গ্লিসারিন ব্যবহার উপকারী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “একটি পরিবারের আনন্দ থাকে শিশুর হাসি-খুশিতে। তাই তাদের সুস্বাস্থ্য রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”
লেখক:
ডা. সেলিনা সুলতানা
কনসালটেন্ট, নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার ও চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ, বেটার লাইফ হসপিটাল।
সাবেক অটিজম বিশেষজ্ঞ, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল।
Copyright © 2026 All Rights Reserved | Siyam Creations |