মোঃ সাইফুল আলম (সোহাগ)| কালবিন্দু| শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
ফরিদপুর
জেলার ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে অস্বাস্থ্যকর
পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রি এবং বিএসটিআই অনুমোদন
ছাড়াই বেকারী পরিচালনার বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে সোমবার
০৬ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ মোবাইল
কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে
দুই ব্যবসায়ীকে মোট ২৫,০০০
(পঁচিশ হাজার) টাকা জরিমানা করা
হয়েছে।
অভিযানটি
পরিচালনা করেন ভাঙ্গা উপজেলা
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট
মোঃ সাদরুল আলম। অভিযানে উপস্থিত
ছিলেন উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোঃ গোলাম মওলা
এবং স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
মোবাইল
কোর্ট সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা
উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের মালিগ্রাম বাজার এলাকায় লতিফ শাহ ফাস্ট
ফুড এন্ড বেকারী দীর্ঘদিন
ধরে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে
খাদ্যপণ্য উৎপাদন করছিল। দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ কেক, বিস্কুট ও
বেকারীজাত খাবার মজুত করে রাখা
ছিল। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির কোনো বিএসটিআই অনুমোদনপত্র
বা সঠিক খাদ্য নিরাপত্তা
সনদ ছিল না।
এই অপরাধের প্রেক্ষিতে “ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯” এর
৪৩ ধারায় বেকারির ম্যানেজার মোঃ মনিরুল ইসলামকে
২০,০০০ (বিশ হাজার)
টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে,
একই বাজারের স্থানীয় মিষ্টির দোকান কৃষ্ণ কুন্ডু মিষ্টান্ন ভান্ডার অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে
মিষ্টি উৎপাদন ও বিক্রি করছিল।
মিষ্টি তৈরির স্থানে ময়লা-আবর্জনা, মাছি,
ধুলাবালি এবং ব্যবহৃত পুরোনো
তেল ও নোংরা পানি
দেখা যায়। ফলে ক্রেতাদের
স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। এ
কারণে দোকান মালিক কৃষ্ণ কুন্ডুকে “ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯” এর
একই ধারায় ৫,০০০ (পাঁচ
হাজার) টাকা জরিমানা করা
হয়।
অভিযান
শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাদরুল আলম
বলেন, “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম
অগ্রাধিকার। আমরা চাই, জনগণ
যেন নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যপণ্য
ক্রয় করতে পারে। কেউ
যদি অস্বাস্থ্যকর বা আইনবহির্ভূতভাবে খাদ্য
উৎপাদন ও বিক্রি করে,
তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।” তিনি আরও বলেন,
“মোবাইল কোর্টের এ অভিযান শুধুমাত্র
জরিমানা নয়, বরং ব্যবসায়ীদের
সতর্ক করার একটি অংশ।
জনস্বার্থে এসব অভিযান নিয়মিতভাবে
অব্যাহত থাকবে।”
“আমরা
প্রতিদিন বাজার থেকে খাবার কিনি,
কিন্তু বেশিরভাগ দোকানে কীভাবে সেই খাবার তৈরি
হয় তা জানি না।
সরকার যদি নিয়মিত এমন
অভিযান চালায়, তাহলে আমাদের মতো ভোক্তারা নিরাপদ
খাদ্য পাবো।”
বাজারের
এক ব্যবসায়ীও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত
জানিয়ে বলেন, “অভিযান হলে খারাপ ব্যবসায়ীরা
সাবধান হয়, আর যারা
ভালোভাবে ব্যবসা করতে চায় তারা
উৎসাহ পায়। এতে বাজারের
পরিবেশও ভালো থাকে।”
অভিযান
চলাকালীন সময় ভোক্তাদের মাঝে
সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। প্রশাসনের
পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের খাদ্যপণ্য
উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা
দেওয়া হয়। এছাড়া, মেয়াদোত্তীর্ণ
পণ্য বিক্রি না করা, পণ্যের
মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ
স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা এবং বিএসটিআই
অনুমোদনপ্রাপ্ত উপকরণ ব্যবহারের জন্য সতর্ক করা
হয়।
“ভোক্তা
অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯” অনুযায়ী
কোনো ব্যক্তি যদি ভোক্তাকে বিভ্রান্ত
করে, নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করে বা মেয়াদোত্তীর্ণ
পণ্য বিক্রি করে, তবে অর্থদণ্ডসহ
কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই আইন বাস্তবায়নে
প্রশাসনের নিয়মিত মোবাইল কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ভাঙ্গা
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো
হয়, উপজেলার প্রতিটি হাট-বাজারে খাদ্যপণ্যের
মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত
করতে নিয়মিতভাবে অভিযান চলবে। অস্বাস্থ্যকর, নিম্নমানের বা ভেজাল খাদ্য
উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে
জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে
না।
এক্সিকিউটিভ
ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাদরুল আলম
বলেন, “আমরা চাই, ভাঙ্গা
উপজেলা ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্যের
একটি মডেল এলাকা হিসেবে
পরিচিত হোক। এজন্য ব্যবসায়ীদের
সহযোগিতা এবং জনগণের সচেতনতা
অপরিহার্য।”
অভিযান
শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা
দেওয়া হয় “জনস্বার্থে মোবাইল
কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”