প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:২৬ এ এম || প্রকাশের তারিখঃ রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:০৪ পি.এম
ফিটনেসে নিয়মিত ব্যায়ামের গুরুত্ব: শরীর ও মনের সুস্থতার গোপন চাবিকাঠি।
নাজীর আহম্মেদ খান| কালবিন্দু| শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
প্রতিবেদন: কালবিন্দু- ব্যস্ত নগরজীবনে ফিটনেস এখন আর বিলাসিতা নয়—এটি এক প্রয়োজন। অফিস, যানজট, মোবাইল-নির্ভর জীবনধারার মধ্যে মানুষ যত আধুনিক হচ্ছে, ততই কমছে শরীরের নড়াচড়া। অথচ সুস্থ জীবনযাপনের মূল শর্তই হলো নিয়মিত ব্যায়াম। এটি শুধু শরীরকে ফিট রাখে না, মনকেও প্রশান্ত ও ইতিবাচক রাখে।
অনেকেই মনে করেন, ব্যায়াম মানেই ওজন কমানো। কিন্তু আসল সত্য হলো—ব্যায়াম শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে সক্রিয় রাখে। রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে, শ্বাসপ্রশ্বাসে ভারসাম্য আনে, পেশি ও হাড়কে শক্ত করে। নিয়মিত শরীরচর্চা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, এবং মানসিক অবসাদের ঝুঁকি কমায়।
চিকিৎসকদের মতে, দিনে মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো, যোগব্যায়াম বা সাইক্লিং শরীরের জন্য যথেষ্ট উপকারী। এতে বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) উন্নত হয়, ঘুম ভালো হয় এবং শরীরে শক্তি বাড়ে।
নিয়মিত ব্যায়াম শুধু শরীর নয়, মনেরও থেরাপি। ব্যায়ামের সময় শরীরে ‘এন্ডরফিন’ নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা আমাদের সুখী ও প্রশান্ত রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তারা বিষণ্নতা বা উদ্বেগে কম ভোগেন। অফিসের চাপ, পারিবারিক টেনশন বা একঘেয়ে জীবন—সব কিছুর ভারসাম্য আনার এক কার্যকর উপায় হলো প্রতিদিন কিছু সময় শরীরচর্চা।
অনেকে ব্যায়াম শুরু করলেও ধারাবাহিকতা রাখতে পারেন না। প্রথম কয়েকদিন উৎসাহ থাকলেও পরে ব্যস্ততা বা অলসতায় তা হারিয়ে যায়। অথচ নিয়মিত অভ্যাসই ফল দেয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে হাঁটা বা ব্যায়াম করলে শরীর দ্রুত অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে হালকা ব্যায়াম বা brisk walking শরীরের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এতে মেটাবলিজম সক্রিয় থাকে এবং সারা দিনের কাজের জন্য শরীর প্রস্তুত হয়।
ফিটনেস কেবল ব্যায়ামে সীমাবদ্ধ নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়ামের পর প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শরীরের পেশি পুনর্গঠনে সাহায্য করে। চিনি ও ফাস্টফুড পরিহার করে পানি, শাকসবজি ও ফলমূলের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
প্রত্যেক বয়সের মানুষের জন্য ব্যায়ামের ধরন ভিন্ন।
-
১৮–৩০ বছর: দৌড়ানো, জিম ও স্ট্রেচিং উপযুক্ত।
-
৩০–৫০ বছর: যোগব্যায়াম, সাঁতার, brisk walking কার্যকর।
-
৫০ বছরের বেশি: হালকা হাঁটা, শ্বাস-প্রশ্বাস অনুশীলন ও মেডিটেশন ভালো ফল দেয়।
নিয়মিত ব্যায়াম মানে কেবল একটি সুন্দর শরীর নয়; এটি আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মপ্রেরণা ও ইতিবাচক মানসিকতার প্রতীক। জীবনের ব্যস্ততায় সময় না পেলেও প্রতিদিন অল্প সময় শরীরের জন্য বরাদ্দ রাখলে সেটি আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখবে।
Copyright © 2026 All Rights Reserved | Siyam Creations |