নাজীর আহম্মেদ খান| কালবিন্দু| শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বিদেশি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রকাশিত এক সার্কুলারে জানানো হয়েছে, এবার দেশীয় বীমা কোম্পানির কভারেজের বিপরীতে ওপেন অ্যাকাউন্ট পদ্ধতিতে রপ্তানি করা যাবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো স্থানীয় বীমা কোম্পানি থেকে পেমেন্ট আন্ডারটেকিং বা পেমেন্ট রিস্ক কভারেজ গ্রহণ করতে পারবে। এতদিন পর্যন্ত এই সুবিধা কেবল বিদেশি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পেমেন্ট গ্যারান্টির মাধ্যমে সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন নির্দেশনার আওতায় দেশীয় বীমা কোম্পানির ইস্যুকৃত বৈদেশিক মুদ্রাভিত্তিক বীমা পলিসির মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে। তবে রপ্তানি আয় দেশে ফেরত না এলে বীমা দাবি বৈদেশিক মুদ্রায় নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রয়োজন হলে বীমা কোম্পানিগুলো বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে পুনর্বীমা (রিইনশিওরেন্স) নিতে পারবে, তাদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায়।
এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো রপ্তানিকারকদের জন্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে আরও সহজ ও নমনীয় করা। ব্যাংকগুলো স্থানীয় বীমা কভারেজের ভিত্তিতে রপ্তানিকৃত পণ্যের বিপরীতে অর্থায়ন বা পোস্ট-শিপমেন্ট ফাইনান্সিং সুবিধাও দিতে পারবে। এর মাধ্যমে রপ্তানিকারকরা সরাসরি দেশীয় ব্যাংক ও বীমা কোম্পানির সঙ্গে কাজ করতে পারবে এবং বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন রপ্তানিতে একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। তারা বলেন, “দেশীয় বীমা কভারেজের মাধ্যমে রপ্তানিকারকরা দ্রুত ও সহজে অর্থায়ন পাবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে, এই পদক্ষেপ রপ্তানি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকেও শক্তিশালী করবে।”
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওপেন অ্যাকাউন্ট পদ্ধতি রপ্তানিকর্তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সরাসরি লেনদেনকে সহজতর করে, এবং পণ্য সরবরাহের সময় ব্যাঙ্কিং জটিলতা কমায়। দেশীয় বীমা কোম্পানির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হলে রপ্তানিকারকের জন্য পেমেন্ট নিরাপত্তা ও ফাইনান্সিং সুবিধা দুটোই নিশ্চিত হবে।
রপ্তানিকারকরা ইতোমধ্যেই এই নতুন নীতিমালা প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করছেন, দেশের রপ্তানি খাতের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি, স্থানীয় অর্থায়ন ও বীমা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশি রপ্তানিকারক সমিতিগুলোও নতুন নীতিমালার সুবিধা সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এটি রপ্তানিকারকদের ব্যবসার গতিশীলতা বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় আরও দৃঢ় অবস্থান গড়ে তুলবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের জন্য এই নীতি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ রপ্তানির জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশীয় বীমা কোম্পানির মাধ্যমে ওপেন অ্যাকাউন্ট সুবিধা রপ্তানিকারকদের স্বচ্ছতা, দ্রুত অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।