নাজীর আহম্মেদ খান| কালবিন্দু| শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
বৃষ্টির পানিতে রাস্তার সংস্কার বা মেরামতের কাজ টেকসই হয় না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক শাহজাহান মিয়া। তিনি বলেন, বর্ষাকালীন আবহাওয়ার কারণে চলমান কিছু সড়ক উন্নয়নকাজ ব্যাহত হলেও, জনদুর্ভোগ লাঘবের স্বার্থে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করা হবে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত ডিএসসিসির পরিচালনা কমিটির নবম করপোরেশন সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রশাসক শাহজাহান মিয়া।
তিনি বলেন, “বৃষ্টির সময় সড়ক সংস্কারের কাজ করলে তা টেকসই হয় না। তবে নাগরিক ভোগান্তি কমাতে অস্থায়ীভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্ষা শেষে টেকসইভাবে সব সড়ক সংস্কার করা হবে।”
সভায় ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের সড়ক খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ১৪৮ কোটি টাকার ১২৭টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এই প্রকল্পগুলোর আওতায় সড়ক, ড্রেন, ফুটপাত ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য অবসরকালীন ও মৃত্যুকালীন সহায়তা সংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এই নীতিমালা অনুযায়ী—
অবসরজনিত বিদায়কালীন সময়ে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী চার লাখ টাকা এককালীন অনুদান পাবেন,
চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে দাফন বা সৎকারের জন্য দশ হাজার টাকা এবং
মৃত কর্মীর পরিবারকে এককালীন তিন লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হবে।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত ২৫ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে গত ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত অষ্টম করপোরেশন সভার কার্যবিবরণী দৃঢ়ীকরণ এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। এরপর আলোচ্য সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক শাহজাহান মিয়া বলেন, “নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণের জন্য আমরা সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং নাগরিক সুবিধা যেন দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যায়—এ বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, “যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা বা সড়ক ভাঙনের কারণে নাগরিকরা ভোগান্তিতে আছেন, সেসব স্থানে মেরামত কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও জোরদার করা হবে। ডিএসসিসি এখন একটি আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব নগর সেবাদানকারী সংস্থায় পরিণত হতে যাচ্ছে।”
নগর ভবনের সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ইতোমধ্যে ৬০-৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বর্ষা শেষে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে অধিকাংশ এলাকায় রাস্তা ও ড্রেন সংস্কার কাজ একযোগে চলছে। নাগরিক স্বার্থে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জরুরি প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
সভা শেষে প্রশাসক শাহজাহান মিয়া বলেন, “আমরা নগর উন্নয়নকে শুধু অবকাঠামোগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি না, বরং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে ধরি। ডিএসসিসি চাই নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে।”