MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
অনলাইন জালিয়াতি ও চাকরির ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর ওয়ারী থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে (তৌহিদ উদ্দিন আফ্রিদি) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত শুনানি শেষে এই গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই প্রতারণা মামলায় তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার দেখাতে আদালতে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ওয়ারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাহফুজুর রহমান। তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, এই মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি নিশাদুজ্জামান নিশাদকে রিমান্ডে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে অনলাইন চক্রের সাথে আসামি তৌহিদ আফ্রিদির প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
সেই আবেদনের শুনানির জন্য আজ দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তৌহিদ আফ্রিদিকে কারাগার থেকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে জোরালো শুনানি করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ শোভন জামিনের আবেদন করে এই গ্রেপ্তারের তীব্র বিরোধিতা করেন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য ও যুক্তি বিবেচনা করে তৌহিদ আফ্রিদিকে ওয়ারী থানার এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন এবং শুনানি শেষে পুনরায় তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণী ও পূর্ব ইতিহাস: ওয়ারী থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাকরির প্রলোভন ও ঘরে বসে বাড়তি আয়ের লোভ দেখিয়ে একটি সুসংগঠিত অনলাইন প্রতারক চক্র ভুক্তভোগী বাদীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করে। এরপর তারা ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন ধাপে টাকা বিনিয়োগ করতে প্রলুব্ধ করে। শুরুতে অল্প পরিমাণ অর্থ মুনাফাসহ ফেরত দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে চক্রটি। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে মুনাফাসহ আসল অর্থ ফেরতের চূড়ান্ত আশ্বাস দিলেও ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সর্বমোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে চক্রটি উধাও হয়ে যায়। এই ঘটনায় সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যূতি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।
উল্লেখ্য, বিগত গণ-অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে প্রথম গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরপর তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক সহিংসতা ও একাধিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এবার নতুন করে যুক্ত হলো অনলাইন প্রতারণার এই আইনি জটিলতা।