MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬ অনুযায়ী ঘোষিত ‘এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক রোডম্যাপ’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের শিল্পায়ন ও বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধিতে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর জিটুজি (গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট) ভিত্তিতে স্থাপিত হতে যাচ্ছে ‘চাইনিজ ইকোনোমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড)।
প্রকল্পটি চূড়ান্তভাবে চালুর লক্ষ্যে ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এবং ল্যান্ড লিজ অ্যাগ্রিমেন্ট অনুমোদন ও স্বাক্ষরের অনুমতির জন্য প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির আগামী সভায় এই মেগা প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হবে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
শেয়ার কাঠামো ও অর্থায়ন নীতি: বিশেষভাবে উল্লেখ্য, সম্পাদিত শেয়ারহোল্ডার্স অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি স্পেশাল পারপাস কোম্পানি (এসপিসি) গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার প্রস্তাবিত নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ সিইআইজেড লিমিটেড’। এই যৌথ কোম্পানির শেয়ার কাঠামো অনুযায়ী চীনা অংশীদার ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’ (সিআরবিসি) ৭০ শতাংশ এবং ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ’ (বেজা) ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করবে।
কোম্পানিতে বেজার ৩০ শতাংশ শেয়ার মূলত প্রকল্প এলাকায় অধিগ্রহণকৃত ৮০০ একর ভূমির ৫০ বছরের লিজমূল্যকে মূলধন হিসেবে গণ্য করে নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এর জন্য বাংলাদেশকে সরাসরি কোনো অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না। অপরদিকে, সিআরবিসির ৭০ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে চীনা ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি পর্যায়ক্রমে কোম্পানিতে বিপুল পরিমাণ নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বা মূলধন বিনিয়োগ করবে। এই অর্থ সিইআইজেডের অভ্যন্তরীণ আধুনিক উন্নয়ন, বিশ্বমানের অবকাঠামো নির্মাণ, প্রশাসনিক ব্যয় এবং অন্যান্য সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।
দীর্ঘ এক দশকের জটিলতা ও ডেভেলপার পরিবর্তন: চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে এই বিশেষ জোন স্থাপনের লক্ষ্যে ২০১৪ সালের ৯ জুন প্রথম দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির (সিএইচইসি) সাথে চুক্তি হলেও অনিবার্য কারণবশত ডেভেলপমেন্ট ও ল্যান্ড লিজ চুক্তি সম্পন্ন না হওয়ায় কাজ থমকে যায়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় ডেভেলপার পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’ (সিআরবিসি)-কে নতুন ডেভেলপার হিসেবে মনোনয়ন দেয়। এরপর গত ২০২৫ সালের মে মাসে সিআরবিসির শতভাগ মালিকানাধীন দুবাইভিত্তিক সহায়ক প্রতিষ্ঠান ‘বিইজিএসিএইচ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট এফজেডসিও’ কে চীনা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পর ইমপ্লিমেন্টিং ডেভেলপার হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। গত ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর বেজা, সিআরবিসি এবং বিইজিএসিএইচের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়।
বেজা সূত্র জানায়, সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের জিডিপিতে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) অবদান ০.৪৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.৫ শতাংশে উন্নীত করা। চট্টগ্রামের আনোয়ারার এই চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলটি চালু হলে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের প্রসার ঘটবে, যা আগামী ৫ বছরে দেশের সামগ্রিক উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে এবং সরকারের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।