লাভলু সরকার| কালবিন্দু| বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
নিজস্ব
প্রতিবেদক
দেশের
বাজারে আবারও বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। বোতলজাত ও
খোলা সয়াবিন তেল এবং পাম
তেলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড
বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
এ তথ্য জানানো হয়।
ঘোষণা
অনুযায়ী, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে
৬ টাকা বাড়িয়ে ১৮৯
টাকা থেকে ১৯৫ টাকা
নির্ধারণ করা হয়েছে। খোলা
সয়াবিনের দাম ৩ টাকা
বাড়িয়ে ১৭৭ টাকা, এবং
পাম তেলের দাম ১৩ টাকা
বাড়িয়ে ১৬৩ টাকা নির্ধারণ
করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৫
লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে
৯৪৫ টাকা।নতুন এ দাম আজ
থেকেই কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়।
এর আগে গত আগস্ট
মাসে ব্যবসায়ীরা প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে ১০ টাকা
বাড়ানোর প্রস্তাব করলেও, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তখন মাত্র ১
টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। সেই সিদ্ধান্তে
অসন্তোষ প্রকাশ করে ব্যবসায়ীরা আনুষ্ঠানিকভাবে
কোনো মূল্য ঘোষণা না করলেও, বাজারে
অস্থিরতা তৈরি হয়। তবে
সাম্প্রতিক আলোচনায় সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে
সমঝোতার মাধ্যমে এই নতুন মূল্য
নির্ধারিত হয়।
এদিকে
দাম বাড়ার খবরে বাজারে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে নিম্ন ও
মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী,
তার উপর ভোজ্যতেলের এই
অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি তাঁদের জীবনে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
রাজধানীর
কারওয়ান বাজারে তেল কিনতে আসা
রিকশাচালক হানিফ মিয়া বলেন, “প্রতিদিন
বাজারে গেলে কোনো না
কোনো জিনিসের দাম বাড়ে। এখন
আবার তেল! আমরা গরিব
মানুষ, কোথায় গিয়ে ঠেকব?” একই
কথা বললেন গৃহিণী সালমা আক্তার। “এক বোতল তেল
কিনতেই ২০০ টাকা লাগে,
বাকি বাজার করব কীভাবে? সরকার
কি আমাদের কথা ভাবে না?”
বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দামে ওঠানামা থাকলেও,
দেশের বাজারে এই দামের ভারসাম্য
রক্ষা করতে সুব্যবস্থাপনা ও
প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জরুরি। তাঁরা মনে করেন, বাজারে
সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ী
চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ না করলে সাধারণ
মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এদিকে
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা বাজার পর্যবেক্ষণ
করছে এবং যেকোনো অনিয়মের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোজ্যতেলের
এই মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে অবিলম্বে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন ভোক্তারা,
যেন বাজারে স্বস্তি ফেরে এবং সাধারণ
মানুষ ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে পারেন।