প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:৫৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০১:৪৬ পি.এম
ইসরায়েলের গাজা হামলা অব্যাহত, ট্রাম্পের নির্দেশ উপেক্ষায় নিহত আরও ৪৬ গাজাবাসি
লাভলু সরকার| কালবিন্দু| বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির নির্দেশ উপেক্ষা করে ইসরায়েল আবারও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। গত শনিবার (৪ অক্টোবর) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দখলদার বাহিনীর এই একতরফা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও অন্তত ৪৬ জন ফিলিস্তিনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শনিবার দিনব্যাপী গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বিমান ও স্থল হামলা চালায়। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও ত্রাণ প্রত্যাশীরাও রয়েছেন। সর্বশেষ গাজা সিটির তুফ্ফাহ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে চালানো বিমান হামলায় একই পরিবারের ১৭ জন নিহত হন। এদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী শিশুটির বয়স ছিল মাত্র ৮ মাস।
হামলার শিকাররা কেউ যুদ্ধের অংশ ছিলেন না, বরং অধিকাংশই সাধারণ মানুষ এবং গৃহহীন অবস্থায় আশ্রয় খুঁজছিলেন। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ট্রাম্পের নির্দেশে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা
এর আগে শুক্রবার রাতে হামাস সশস্ত্র গোষ্ঠী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি জানায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধের নির্দেশ দেন বলে দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত কয়েকজন কূটনীতিক।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই নির্দেশ মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হলেও মধ্যপ্রাচ্যে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির সূচনা হতে পারত। তবে ইসরায়েলের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করেছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠন ইসরায়েলের এই হামলাকে ‘সাংঘাতিক যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
মৃতের সংখ্যা পেরিয়েছে ৬৭ হাজার। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া চলমান যুদ্ধের ফলে এখন পর্যন্ত মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৭৪ জনে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছেন।
প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। এছাড়াও, অনাহার ও পুষ্টিহীনতায় মৃত্যু আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় খাদ্যাভাবের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুইজন। এ নিয়ে যুদ্ধ চলাকালীন অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে ৪৫৯ জনের, যাদের মধ্যে ১৫৪ জন শিশু।
মানবিক সংকট চরমে
গাজার চারদিক এখন ধ্বংসস্তূপ। হাসপাতাল, স্কুল, খাদ্যগুদাম কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজার পরিস্থিতিকে ‘চরম মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, গাজার হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জামের মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা করা যাচ্ছে না। মজুত ওষুধও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
শিশুরা চরম অনাহারে ভুগছে, মা ও নবজাতকরা পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় পুষ্টি।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব এক বিবৃতিতে বলেন, “গাজার মানবিক পরিস্থিতি এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষার দায়িত্ব সব পক্ষেরই রয়েছে।”তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ইসরায়েল তার আগ্রাসী মনোভাব থেকে সরে আসছে না বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশও উপেক্ষিত হওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান এই মানবিক বিপর্যয় বন্ধে এখন জরুরি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধবিরতি এবং ত্রাণ প্রবাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ইসরায়েলের একতরফা হামলা এবং আন্তর্জাতিক নির্দেশ অমান্য করার ঘটনাগুলো এখন বিশ্বশান্তির প্রশ্নে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
Copyright © 2026 All Rights Reserved | Siyam Creations |