নাজীর আহম্মেদ খান| কালবিন্দু| বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
সুদানের উত্তর দারফুর প্রদেশের রাজধানী এল-ফাশের শহরে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) বাহিনী। স্থানীয় সময় শনিবার সকালে চালানো এ হামলায় ৬০ জনের বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, এবং বহু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি (এএ) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্থানীয় ত্রাণ সমন্বয় কমিটি এই হামলার জন্য আরএসএফ বাহিনীকে সরাসরি দায়ী করেছে।
কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, “দার আল-আরকাম আশ্রয়কেন্দ্রে দুটি ড্রোন এবং আটটির বেশি অগ্নিবোমা নিক্ষেপ করা হয়। পুরো এলাকা মুহূর্তের মধ্যে আগুনে ভরে যায়। নিহতদের দেহ আশ্রয়কেন্দ্রজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে—যে দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।”
হামলার পর আরএসএফ কোনো মন্তব্য জানায়নি, তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা এল-ফাশের শহরে বারবার বিমান ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
সুদানিজ ডক্টরস নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১৭ শিশু ও ২২ নারী রয়েছেন। আহতদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
কমিটি বলেছে, “যেসব সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার আশ্রয় খুঁজছিলেন, তারা এখন মৃত্যুর মুখে পড়েছেন। এটি শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, এটি গণহত্যার শামিল।”
আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়ন, বারবার এই অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তবুও আরএসএফ বাহিনী তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারের কাছাকাছি হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দারফুর অঞ্চলে এই ধরনের লক্ষ্যবস্তুহীন হামলা শুধু মানবিক সংকট নয়, বরং সুদানের সার্বিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ইতোমধ্যে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি তুলেছে।
সুদানের এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, দেশটি আবারও গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যার প্রভাব পুরো উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে পড়বে।