MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। ঐতিহাসিক এই শান্তির খবর আন্তর্জাতিক বাজারে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এর ফলে তেলের দাম গত মার্চের পর বর্তমানের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বাজারের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী, আজ বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য (Brent Crude Futures) প্রতি ব্যারেলে ৩ ডলার ৫৮ সেন্ট বা ৪ দশমিক ১০ শতাংশ কমে মাত্র ৮৩ ডলার ৭৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য নির্ধারিত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ৪ ডলার ১ সেন্ট বা ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৮০ ডলার ৮৭ সেন্টে বেচাকেনা হচ্ছে।
নেপথ্যে পাকিস্তান ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতা: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুসারে, তাঁর দেশের সফল মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। এর আগে গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান যে, হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ টোলমুক্ত করা হবে এবং একই সাথে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আমেরিকার নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর জানিয়েছে, খসড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল, কারণ বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের অভিমত: কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, অপরিশোধিত তেলের দামের সঙ্গে যুক্ত ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির অতিরিক্ত মূল্য (Risk Premium) এখন দ্রুত কমে যাচ্ছে। কারণ ব্যবসায়ীরা তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকে এখন বাজারদরে হিসাবের মধ্যে আনছেন। অন্যদিকে কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার পণ্য কৌশলবিদ বিবেক ধর এক নোটে জানিয়েছেন, যুদ্ধের আগের অতিরিক্ত সরবরাহ পরিস্থিতিতে বাজারকে ফিরিয়ে আনতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল প্রবাহ আগের মাত্রার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছালেই বিশ্ববাজারের জন্য যথেষ্ট হবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী জানিয়েছেন যে, এই ৬০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময়ে দুই দেশের মধ্যে আরও বিস্তৃত একটি স্থায়ী চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালিসহ ইউরোপের চার পরাশক্তি গতকাল যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হলে তারা দেশটির ওপর থেকে সব ধরণের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রস্তুত। তবে আইজি’র বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর মনে করেন, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা, বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যু ঘিরে এখনও যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই অদূর ভবিষ্যতে তেলের দাম বর্তমান অবস্থান থেকে খুব বেশি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।