MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও যুদ্ধ বন্ধে অনতিবিলম্বে একটি কার্যকর শান্তিচুক্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এই ঐতিহাসিক যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার ফ্রান্সের সুইজারল্যান্ড সীমান্তবর্তী দৃষ্টিনন্দন শহর এভিয়ান-লে-বাঁ-এ অনুষ্ঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট ‘জি-৭’ (G7) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং জি-৭ নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকটিকে তিনি ‘খুবই ফলপ্রসূ ও ভালো’ বলে অভিহিত করেন।
তরুণদের প্রাণহানি ও বৈশ্বিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ: সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামাতে আমার পক্ষ থেকে যা কিছু করার প্রয়োজন, আমি ঠিক তা-ই করব। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিদিন দুই পক্ষেই অসংখ্য তাজা তরুণ প্রাণ হারাচ্ছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক। কোনোভাবেই এই ধ্বংসযজ্ঞ আর চলতে দেওয়া যায় না, এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হওয়া দরকার।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই সংঘাত শুধু রাশিয়া ও ইউক্রেনের মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্যই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়া ছাড়াও ব্যাপক প্রাণহানি, অপূরণীয় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা বর্তমান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেন ইস্যু ও জেলেনস্কির অবস্থান: এবারের ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেন পরিস্থিতিই ছিল বিশ্বনেতাদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। সম্মেলনে অংশ নেওয়া পরাশক্তিগুলোর নেতারা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি তাঁদের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চলমান মাঠের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইউক্রেনের জরুরি সামরিক ও মানবিক চাহিদা নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বিশদ আলোচনা করেন। তিনি রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রতি বিশ্বনেতাদের আর্থিক ও সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জোরালো আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জি-৭-এর মঞ্চে ট্রাম্পের এই ইতিবাচক বক্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে বিশ্বরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন আগ্রহ ও আশার আলো তৈরি হয়েছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে এই শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে মস্কো ও কিয়েভের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার অগ্রগতির ওপর।