নাজীর আহম্মেদ খান| কালবিন্দু| শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
অ্যানথ্রাক্স: গবাদিপশু থেকে মানুষের প্রাণঘাতী সংক্রমণ ও প্রতিরোধের উপায়
বাংলাদেশে গবাদিপশুর রোগগুলোর মধ্যে অ্যানথ্রাক্স অন্যতম পরিচিত ও ভয়ংকর রোগ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলেও মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। এটি মূলত ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি রোগ। প্রথমে গবাদিপশু আক্রান্ত হয় এবং পরে আক্রান্ত পশুর মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটে। তবে মানুষ থেকে মানুষে এ রোগ ছড়ায় না। এজন্য অ্যানথ্রাক্সকে একটি জুনোটিক ডিজিজ বলা হয়। বাংলায় এটি পরিচিত ‘তড়কা রোগ’ নামে।
কীভাবে ছড়ায় অ্যানথ্রাক্স
গবাদিপশু থেকে তিনভাবে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এ রোগের জীবাণু:
অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ
বিশেষজ্ঞ মত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সহিদুজ্জামান বলেন,
“ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস ব্যাকটেরিয়া মাটিতে দীর্ঘদিন সুপ্ত থাকতে পারে। সংক্রমিত চারণভূমি, দূষিত পানি, খাবার বা মৃত পশুর সংস্পর্শে এলে গবাদিপশু আক্রান্ত হয় এবং সেখান থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। তবে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না।”
তিনি আরও বলেন, “অ্যানথ্রাক্স থেকে বাঁচার প্রধান উপায় হলো সংক্রমিত প্রাণী ও পশুজাত পণ্যের সংস্পর্শ এড়ানো। গবাদিপশুকে নিয়মিত টিকা দিতে হবে এবং সন্দেহজনক মাংস খাওয়া যাবে না।”
প্রতিরোধের উপায়
অ্যানথ্রাক্স ভয়ংকর সংক্রামক রোগ হলেও সচেতনতা, সঠিক টিকাদান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু মূলত ছড়ায় আক্রান্ত প্রাণীর মাধ্যমে। এ জীবাণু মাটিতেও থাকতে পারে। কেউ যদি অসুস্থ প্রাণীর মাংস খায় কিংবা শ্বাসের মাধ্যমে এ রোগের জীবাণু তার শরীরে প্রবেশ করে, তাহলে তিনি এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এ ছাড়া ত্বকে কোনো ক্ষত থাকলে সেই ক্ষত দিয়েও অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে।