নাজীর আহম্মেদ খান| কালবিন্দু| বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
ধানের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হচ্ছে ভুট্টা। গত এক দশকে ভুট্টার উৎপাদন প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। পোলট্রি, মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্য শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ভুট্টার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদিত হচ্ছে। বিশেষ করে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও ময়মনসিংহ জেলায় ভুট্টা চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টা বেশি লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা দ্রুত এ ফসলে ঝুঁকছেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের কৃষক আমিরুল ইসলাম কালবিন্দুকে বলেন,
“এক একরে ধানের থেকে অর্ধেক খরচে ভুট্টা চাষ করা যায়। বাজারও ভালো, পোলট্রি খামারিরা সব কিনে নেয়। এতে বছরে তিনবার পর্যন্ত ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।”
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা বলছেন,
· ভুট্টা গম ও ধানের তুলনায় পানি কম খরচ করে।
· রোগবালাই কম হয়।
· প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ১০-১২ টন পর্যন্ত ওঠে।
তবে সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা ভুট্টা উৎপাদনের বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় কৃষকেরা ন্যায্য দাম পান না। এছাড়া বীজের মান, যন্ত্রপাতির স্বল্পতা ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পের ঘাটতি রয়েছে।
· কৃষি যান্ত্রিকীকরণে বিনিয়োগ বাড়ানো
· মানসম্মত বীজ ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করা
· গ্রামীণ পর্যায়ে ভুট্টা সংরক্ষণের ব্যবস্থা
· ভুট্টা নির্ভর শিল্পের প্রসার ঘটানো
ভুট্টা চাষ বাংলাদেশের কৃষিতে একটি “সাইলেন্ট রেভল্যুশন” ঘটাচ্ছে। সঠিক নীতিগত সহায়তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ভুট্টা রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।