নাজীর আহম্মেদ খান| কালবিন্দু| বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগেছে বাংলাদেশ দল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৪ ওভারে মাত্র ২০৭ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। ম্যাচ জিততে ক্যারিবীয়দের করতে হবে ২০৮ রান।
ইনিংসের শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই রোমারিও শেফার্ডের করা বল এলবিডব্লিউ হন ওপেনার সাইফ হাসান। তিনি করেন মাত্র ৩ রান। এর পরের ওভারেই জেডেন সিলসের বলে কভার পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য সরকার, ফেরেন মাত্র ৪ রানে। ফলে ৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা।
তৃতীয় উইকেটে দায়িত্ব নেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়। তবে ধীরগতির এই জুটিতে রান তোলার গতি ছিল মন্থর। দুজন মিলে ১২০ বল খেলে মাত্র ৭১ রান যোগ করেন। ৬৩ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৩২ রান করে শান্ত এলবিডব্লিউ হন খারে পিয়েরির বলে।
এরপর দলকে কিছুটা স্থিতি এনে দেন তাওহিদ হৃদয়। কিন্তু মিরপুরের ধীরগতির উইকেটে সংগ্রামী ইনিংসে তার হাফসেঞ্চুরি করতে লেগে যায় ৮৭ বল। শেষ পর্যন্ত ৯০ বলে ৫১ রান করে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ইনিংসটিতে ছিল মাত্র ৩টি বাউন্ডারি।
এরপর দলের পঞ্চম উইকেটে ব্যাট হাতে নামেন নবীন ব্যাটার অঙ্কন ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তারা ৫৫ বলে ৪৩ রানের একটি জুটি গড়েন। কিন্তু রস্টন চেজের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ দেন মিরাজ, ফেরেন ২৭ বলে ১৭ রানে।
এরপর একে একে সাজঘরে ফেরেন অঙ্কন, সাকিব মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। তখন বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে রান সংখ্যা ১৮০-এর নিচে। মনে হচ্ছিল, দুইশর নিচেই গুটিয়ে যাবে ইনিংস। তবে শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ও তানভীর ইসলাম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।
দুজনের ব্যাটে আসে ২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। রিশাদ করেন ২১ বলে ২৩ রান, তানভীর অপরাজিত থাকেন ১৮ বলে ১৪ রানে। তাদের ব্যাটেই ২০৭ রানের ছোট কিন্তু লড়াইযোগ্য পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
বল হাতে সবচেয়ে সফল ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলার ছিলেন রোমারিও শেফার্ড, তিনি নেন ৩ উইকেট। এছাড়া জেডেন সিলস ও খারে পিয়েরি প্রত্যেকে নেন ২টি করে উইকেট।
এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য ২০৮ রান—যা মিরপুরের এই উইকেটে খুব একটা বড় স্কোর নয়। তবে ধীরগতির পিচে প্রথম ১০ ওভারে উইকেট তুলে নিতে পারলে ম্যাচে ফিরতে পারে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের সমর্থকরা এখন তাকিয়ে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তানভীর ইসলাম ও রিশাদ হোসেনের স্পিন ত্রয়ীর দিকে, যারা হয়তো ম্যাচে প্রতিরোধ গড়ে দিতে পারেন।