নাজীর আহম্মেদ খান| কালবিন্দু| শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
শক্তি ও পুষ্টিতে ভরপুর ডিম: আজ বিশ্ব ডিম দিবস পালিত হচ্ছে সারাদেশে
আজ বিশ্ব ডিম দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে দিনটি। প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার আন্তর্জাতিকভাবে ‘বিশ্ব ডিম দিবস (World Egg Day)’ হিসেবে উদযাপিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য— ‘শক্তি ও পুষ্টিতে ভরপুর ডিম’।
ডিম একটি সাশ্রয়ী, সহজলভ্য এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ খাবার হিসেবে পরিচিত। তাই এ দিবসটি ডিমের পুষ্টিমান, খাদ্য নিরাপত্তা এবং মানবস্বাস্থ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
দিবসটি উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য হলো— সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাসে ডিমের নিয়মিত অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং পোল্ট্রি শিল্পের মাধ্যমে দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার করা।
বাংলাদেশে দিবসটি পালন করছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) ও ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন (ওয়াপসা), বাংলাদেশ শাখা। সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান আজ রাজধানীসহ সারাদেশে আলোচনা সভা, র্যালি ও প্রচারাভিযানের আয়োজন করেছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর তথ্যমতে, সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে প্রতিটি মানুষের বছরে অন্তত ১০৪টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে, গড়ে প্রতিজনের জন্য বছরে ১৩৭টি ডিমের সহজলভ্যতা রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের পোল্ট্রি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩১ সালের মধ্যে মাথাপিছু ডিম ভোগ ১৬৫টি এবং ২০৪১ সালের মধ্যে তা ২০৮টিতে উন্নীত করা।
ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ইতোমধ্যে পোল্ট্রি খাতে বিভিন্ন প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম চালু করেছে। পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন প্রযুক্তিনির্ভর খামার স্থাপন ও রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব ডিম দিবসের সূচনা হয় ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন (IEC) সম্মেলন থেকে। সেই বছর থেকেই প্রতি অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে।
দিবসটিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে চলছে বিভিন্ন ইতিবাচক প্রচারণা, যাতে ডিমের পুষ্টিমান সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ডিমে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন এ, ডি, বি১২, আয়রন, সেলেনিয়ামসহ মানবদেহের প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, ডিম নিয়মিত খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, শিশুদের মেধা বিকাশে সহায়তা করে, এমনকি বয়স্কদের হাড় ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বিপিআইসিসির সভাপতি জানিয়েছেন, “বাংলাদেশে এখন পোল্ট্রি খাত শুধু পুষ্টি নয়, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিরও অন্যতম চালিকা শক্তি। সাশ্রয়ী মূল্যে ডিম সরবরাহ বজায় রাখতে সরকার ও উদ্যোক্তারা একসঙ্গে কাজ করছে।”

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ডিম খাওয়ার প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও উৎপাদন প্রণোদনা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ অচিরেই পূর্ণ পুষ্টিনিরাপত্তার পথে আরও এগিয়ে যাবে।
আজ সারাদেশে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও সামাজিক সংগঠনেও ‘ডিম খান, সুস্থ থাকুন’ স্লোগানে প্রচারণা চলছে। শিশুদের পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
বিশ্ব ডিম দিবস কেবল একটি খাদ্য দিবস নয়, এটি একটি মানবিক বার্তা— পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও সুখের উৎস একটি সাধারণ ডিমের মধ্যেই লুকিয়ে আছে।
সূত্র: বিপিআইসিসি, এফএও, প্রণিসম্পদ অধিদপ্তর, কালবিন্দু