No Name | Times News 24 | Fast Online News Portal | শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাশের হারে বড় ধস নেমেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় একযোগে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এ বছর গড় পাশের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় সোয়া ১২ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছে পাঁচ লাখেরও বেশি।
গত বছরের তুলনায় পাশের হার অনেকটাই কমেছে। ২০২৪ সালে যেখানে পাশের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ, এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশে। বিগত ১০ বছরে এমন খারাপ ফলাফল আর দেখা যায়নি, অটোপাশের বছর ২০২০ বাদ দিলে।
এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করলেও প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। বাকি ১২ লাখের কিছু কম শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্য থেকে ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ৪৪ জন, আর ছেলে শিক্ষার্থী ৩২ হাজার ৫৩ জন।
পাশের হারে এবারও মেয়েরা ছেলেদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। মেয়েদের পাশের হার ৬২ দশমিক ৯৭ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের পাশের হার মাত্র ৫৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। ২০১০ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মেয়েরা এইচএসসিতে পাশের হারে এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকেও মেয়েরা টানা পঞ্চমবারের মতো ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে আছে।
ফলাফলে আরও দেখা গেছে, দেশের ২০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাশ করেনি, অর্থাৎ পাশের হার শূন্য। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৫টি। শিক্ষা বোর্ড অনুযায়ী, ঢাকা বোর্ড এবারও সবচেয়ে বেশি পাশ করেছে। এখানে পাশের হার ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। বিপরীতে সবচেয়ে কম পাশ করেছে কুমিল্লা বোর্ড মাত্র ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
অন্যান্য বোর্ডে পাশের হার ছিল যথাক্রমে
রাজশাহী: ৫৯.৪০%
যশোর: ৫০.২০%
চট্টগ্রাম: ৫২.৫৭%
বরিশাল: ৬২.৫৭%
সিলেট: ৫১.৮৬%
দিনাজপুর: ৫৭.৪৯%
ময়মনসিংহ: ৫১.৫৪%
কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডসহ সব মিলিয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফল তৈরি হয়েছে বাস্তব মূল্যায়ন নীতির ভিত্তিতে।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, করোনাপরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থার ঘাটতি, পাঠদানে অনিয়মিততা এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি এমন খারাপ ফলাফলের অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্য শিক্ষাক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
শেষ কথা, ফলাফলের এই চিত্র দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে বড় এক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল করার মূল কারণ কী, এবং কীভাবে এই প্রবণতা ঠেকানো যাবে? policymakers, অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজের জন্য এখন সেটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।