প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৩০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৭:২৪ এ এম
লাভলু সরকার| কালবিন্দু| বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
নিজস্ব
প্রতিবেদক :
মানুষের
জীবন সাফল্য ও ব্যর্থতার, সুখ
ও দুঃখের এক পরীক্ষার ময়দান।
এখানে কেউই স্থায়ীভাবে সুখে
বা দুঃখে থাকে না। আল্লাহ
তাআলা কুরআনে বলেছেন, “আমি তোমাদের পরীক্ষা
করব ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ
ও জান-মালের ক্ষতি
দিয়ে।” (সূরা বাকারা: ১৫৫)
এই দুনিয়ায় প্রতিটি বিপর্যয় ও সংকট মানুষের
জন্য এক একটি পরীক্ষা।
তবে আল্লাহর অসীম রহমত ও
ক্ষমাশীলতার ওপর বিশ্বাস রেখে
এবং দোয়ার মাধ্যমে তাঁর সাহায্য চেয়ে
একজন মুমিন প্রতিটি সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারে। ইসলামে
দোয়াকে ইবাদতের মূল বলা হয়েছে।
নিম্নে
ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া তুলে ধরা হলো,
যা কোরআন-হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এবং মুসলমানদের জীবনের
প্রতিটি সংকটপূর্ণ মুহূর্তে আল্লাহর সাহায্য লাভের উপায় হতে পারে।
১. বিপদের সময় ইউনুস (আ.)-এর দোয়া
নবী
ইউনুস (আ.) যখন মাছের
পেটে বন্দি ছিলেন, তখন তিনি এই
দোয়াটি পাঠ করেছিলেন। এটি
একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দোয়া, যা আল্লাহর কাছে
আত্মসমর্পণের প্রতীক।
আরবি:
لَّا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা
আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ-জোয়ালিমিন।
অর্থ: “তুমি ছাড়া কোনো
ইলাহ নেই, তুমি পবিত্র,
আমি অবশ্যই অন্যায়কারী ছিলাম।”
ফজিলত: রাসুল (সা.) বলেছেন, এই
দোয়া যে কেউ বিপদের
সময় পড়লে, আল্লাহ তা’আলা তার
দুঃখ ও সংকট দূর
করে দেন। (তিরমিজি: ৩৫০৫)
পড়ার সময়: বিশেষ করে তাহাজ্জুদের সময়
এই দোয়া পাঠ করা উত্তম।
২. ইস্তেগফারের দোয়া: মুক্তির পথ খুলে দেয়
পাপ
মোচন ও দুঃখ থেকে
মুক্তির জন্য ইস্তেগফার একটি
মহান উপায়। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি এই
ইস্তেগফার নিয়মিত পাঠ করে, তার
সব সংকট থেকে মুক্তির
রাস্তা আল্লাহ খুলে দেন এবং
অপ্রত্যাশিত রিজিকের ব্যবস্থা করেন।
আরবি:
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ
إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা
হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ: “আমি সেই আল্লাহর
কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো
ইলাহ নেই, যিনি চিরঞ্জীব
ও চিরন্তন এবং আমি তাঁর
দিকেই প্রত্যাবর্তন করছি।”
ফজিলত: আবু দাউদ (১৫১৭)
হাদিসে উল্লেখ আছে, আল্লাহ এর
মাধ্যমে রিজিক ও সংকট মুক্তি
দেন।
পড়ার সময়: ফজরের নামাজের পর ১০০ বার
পাঠ করা ভালো।
৩. মসিবতে পড়লে যে দোয়া
কোনো
কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লে কোরআনে নির্দেশিত দোয়া হলো:
আরবি:
إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي
উচ্চারণ: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি
রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি।
অর্থ: “নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য
এবং নিশ্চয়ই তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন
করব। হে আল্লাহ! আমাকে
আমার এই মুসিবতের বিনিময়ে
পুরস্কৃত করো।”
ফজিলত: সহিহ মুসলিম (৯১৮)
অনুযায়ী, এই দোয়া পাঠ
করলে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দেন।
৪. দ্রুত সাহায্য লাভের দোয়া
আল্লাহর
দুটি গুণবাচক নাম দিয়ে রচিত
এই দোয়াটি বিপদের সময় দ্রুত সাহায্য
পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করার
অন্যতম উপায়।
আরবি:
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ
উচ্চারণ: ইয়া হাইয়্যু ইয়া
কাইয়ুম, বিরাহমাতিকা আসতাগিস।
অর্থ: “হে চিরঞ্জীব, হে
চিরস্থায়ী! তোমার দয়ার মাধ্যমে আমি সাহায্য প্রার্থনা
করছি।”
পদ্ধতি: আলেমরা বলেন, সেজদার অবস্থায় এই দোয়া ৭
বার পাঠ করা উত্তম।
৫. শত্রুর কবল থেকে রক্ষার
দোয়া
হজরত
ইবরাহিম (আ.) যখন আগুনে
নিক্ষিপ্ত হন, তখন তিনি
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে
এই দোয়াটি পাঠ করেন।
আরবি:
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল
ওয়াকিল।
অর্থ: “আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই
সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।”
পদ্ধতি: প্রতিদিন অন্তত ৩ বার পাঠ
করা উত্তম। কেউ কেউ বলেন,
দোয়া পড়ার পর ওপর দিকে
ফুঁক দিলে ভালো ফল
পাওয়া যায়।
৬. সহজ কিন্তু শক্তিশালী
দোয়া
রাসুল
(সা.) বলেছেন, এটি জান্নাতের গুপ্তধনের
একটি দোয়া।
আরবি:
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
উচ্চারণ: লা হাওলা ওয়ালা
কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
অর্থ: “আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায়
বা শক্তি নেই।”
ফজিলত: সহিহ বুখারি (৬৩৮৪)-তে বর্ণিত, এটি
জান্নাতের ধনভাণ্ডারের অন্যতম।
পাঠের পরামর্শ: প্রতিদিন ১০০ বার পড়লে
দুশ্চিন্তা হ্রাস ও মানসিক প্রশান্তি
আসে।
দোয়া
কবুলের গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলী:
১. হালাল রিজিক: দোয়া কবুলের জন্য হালাল উপার্জন
ও খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য।
২. ইখলাস বা খাঁটি মনোভাব:
দোয়া যেন লোক দেখানোর
জন্য না হয়।
৩. ধৈর্য: দোয়া করার পর ফলাফলের
জন্য ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
৪. হারাম থেকে দূরে থাকা:
সব ধরনের হারাম কাজ পরিহার করতে
হবে।
রাসুল
(সা.) বলেন, “দোয়া হল ইবাদতের মূল।”
(তিরমিজি: ৩৩৭১)
এই দোয়াগুলো কেবল মুখে পাঠ
করলেই হবে না; এর
সঙ্গে থাকতে হবে দৃঢ় বিশ্বাস,
সততা ও পরিশ্রম। মুমিন
জীবনের প্রতিটি সঙ্কটে এই দোয়াগুলোর মাধ্যমে
আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা
করলে, ইনশাআল্লাহ, সেই সাহায্য আসবেই।
পাশাপাশি হালাল উপার্জন, ধৈর্য এবং আত্মসমর্পণের মানসিকতা
ধারণ করাও অপরিহার্য।
আল্লাহ
আমাদের সবাইকে কোরআন-হাদিস অনুযায়ী জীবন গড়ার তাওফিক
দিন।
ছবি : সংগৃহীত