MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
টিভি নাটকের এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় ও শীর্ষ অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। বর্তমানে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের চেনা ভুবনে আগের মতো নিয়মিত না হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বেশ সক্রিয়। সম্প্রতি তাঁর একটি ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে নেটদুনিয়ায় তুমুল আলোচনা ও প্রেমের গুঞ্জন ছড়ায়। এই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার সরাসরি এক দীর্ঘ ভিডিওবার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন প্রভা, যেখানে তিনি বিগত ১৬ বছর ধরে মনে জমে থাকা তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এবং সাইবার অপরাধী ও উগ্র ট্রলকারীদের বিরুদ্ধে কিছু ‘জ্বালাময়ী সত্য’ প্রকাশ করেছেন।
ভিডিওবার্তার শুরুতেই প্রভা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিষয়ে তিনি মুখ না খুললেও, নিজের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে এখন আর চোখ বন্ধ করে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই নিজের ভেতরের জমে থাকা কষ্টগুলো প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। অনলাইনে যারা নিয়মিত অন্যদের ট্রল ও বুলিং করেন, হিউম্যান সাইকোলজি ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন গবেষণার সূত্র ধরে তাদের বিকৃত মানসিকতা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলেন প্রভা।
বুলিংকারীদের মানসিকতা ও প্রভার দীর্ঘ যন্ত্রণা: প্রভা বলেন, "আপনারা যারা সামাজিকমাধ্যমে অন্যদের আক্রমণ করেন, তারা মূলত নিজেদের যোগ্যতা, সামাজিক স্থান, রূপ-সৌন্দর্য কিংবা কোয়ালিফিকেশনের প্রতি চরম নিরাপত্তাহীনতায় (Insecurity) ভোগেন বলেই অন্য মানুষকে কটূক্তি করে আনন্দ পান। যারা অন্যের ব্যাপারে এত অ্যাগ্রেসিভলি জাজ করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভার্বালি অ্যাবিউজ (ভাষাগত নিপীড়ন) করে, তারা আসলে নিজেদের জীবন নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট নয় এবং তারা ভেতর থেকে ভীষণ দুঃখী।"
নিজের দীর্ঘ ১৬ বছরের যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "আমাকে অনবরত সাইবার বুলিং করা হচ্ছে অলমোস্ট ১৬ বছর ধরে। আপনারা যে আমাকে বুলিং করে এক ধরণের পৈশাচিক আনন্দ পান, তা আমি শতভাগ বুঝতে পারি। কিন্তু ঠিক যতটুকু ট্রল আমাকে নিয়ে করছেন, তার যদি অর্ধেকও প্রকৃত অপরাধী বা ক্রাইমিনালটাকে খুঁজে বের করে তাকে নিয়ে করতেন, ওর চেহারাটা বারবার মানুষের সামনে এনে বলতেন যে ও একজন অপরাধী, তাহলে আজ পরিস্থিতি এতটা নোংরা হতো না।"
ভিকটিম ব্লেমিংয়ের তীব্র সমালোচনা: সমাজে ভিকটিম ব্লেমিং বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকেই দোষারোপ করার নোংরা সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করে প্রভা আরও বলেন, "আমাদের সমাজে এখন ধর্ষকদের ছবি মিডিয়ায় দেওয়া হয়, অ্যাসিড নিক্ষেপকারীদের বিশাল শাস্তি বা পেনাল্টি দেওয়া হয়। ঠিক তেমনিভাবে যারা অন্য একটা মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি তাঁর সম্মতি ছাড়া ডিসক্লোজ (ফাঁস) করে দেয়, সেটাও কিন্তু একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। কিন্তু আপনারা সেই অপরাধী পুরুষদের বয়কট না করে দিন কে দিন ভিকটিম মেয়েটাকেই মানসিকভাবে বুলিং করে যাচ্ছেন।"
অনলাইন ট্রলকারীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে প্রভা বলেন, "আপনাদের ইনকাম সোর্স বা কোয়ালিফিকেশন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। কিন্তু যে পরিমাণ বুলিং আপনারা আমাকে করেছেন, তার অর্ধেকও যদি অপরাধীকে করতেন, তাহলে পৃথিবীতে ‘তন্ময়’দের মতো অপরাধীদের জন্ম হতো না। একটা ৩৫ বছর বয়সী ইয়াং ছেলে চাইলে যেকোনো সুস্থ সম্পর্কে জড়াতে পারত। কিন্তু এই বিকৃত মানসিকতা (Perversion) ওর মধ্যে জন্ম নিয়েছে কারণ আমরা মূল অপরাধীকে আড়াল করে ভিকটিমকে নিয়ে মেতে থাকি।" ভিডিও বার্তার শেষ অংশে প্রভা আগামী প্রজন্মের জন্য সঠিক প্যারেন্টিং (সন্তান লালন-পালন) ও চাইল্ডহুড ট্রমা দূর করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, অপরাধীকে শাস্তি না দিয়ে ভিকটিমকে অবদমিত করলে সমাজ আরও বেশি পচে যাবে। তাই তিনি প্রকৃত অপরাধীদের আইনি জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য সবার প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।