MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
জাতীয় সংসদে অতীতের মতো সরকারঘেঁষা তোষামুদে বা ‘বগলদাবা’ বিরোধী দল কিংবা অকারণে হট্টগোল ও দীর্ঘমেয়াদি ওয়াকআউটনির্ভর সস্তা রাজনীতি করবে না জামায়াতে ইসলামী। বরং জনগণের করের টাকার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করে জনস্বার্থ রক্ষায় সম্পূর্ণ গঠনমূলক, যৌক্তিক ও যুক্তিনির্ভর বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সংসদীয় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি হলে গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অতীতের ধারার বাইরে যৌক্তিক রাজনীতি: বিগত সংসদগুলোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের সংসদে আদতে জনগণের পক্ষে কথা বলার মতো কার্যকর কোনো বিরোধী দল ছিল না। তৎকালীন সরকারি দলই কার্যত তাদের অনুগত ছায়া বিরোধী দলের ভূমিকা নির্ধারণ করে দিত। আবার এর আগের ইতিহাস দেখলে দেখা যায়, অন্য এক ধরনের বিরোধী দল ছিল যারা ফাইল ছোড়াছুড়ি, অহেতুক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ঢালাও সংসদ বর্জনের রাজনীতি করত। আমরা এই দুটি অচল ধারার সম্পূর্ণ বাইরে থেকে সাধারণ মানুষের মনের কথা বলতে চাই। আমরা বগলদাবা বিরোধী দল হবো না, আবার অহেতুক হট্টগোলও করব না। সংসদে আমরা সবসময় রিজনেবল (যৌক্তিক) এবং লজিক্যাল (ন্যায়সংগত) থাকবো।"
সংসদ পরিচালনার বিপুল খরচের হিসাব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "জাতীয় সংসদের প্রতি মিনিট পরিচালনায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার তথা জনগণের ট্যাক্সের প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়। জনগণের এই কষ্টের অর্থের বিনিময়ে আমরা সংসদে দাঁড়িয়ে কারও ব্যক্তিগত চরিত্রহনন, পারস্পরিক দলীয় বিদ্বেষ ছড়ানো বা সরকারের অন্ধ স্তুতি গেয়ে পবিত্র সময় নষ্ট করতে চাই না। জনগণের স্বার্থের বাইরে আমরা সংসদে একটি মিনিটও অপচয় করব না।"
সংবেদনশীল ইস্যুতে আপসহীন অবস্থান ও বাজেট সংস্কার: বিরোধী দলীয় নেতা জানান, সংসদে জনগণের মুখপাত্র হিসেবে তাঁরা এরই মধ্যে দেশের ব্যাংকিং খাতের চরম সংকট, শেয়ার বাজারের ধারাবাহিক ধস, প্রবাসীদের নানা হয়রানি ও সমস্যা এবং ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক ‘পুশ-ইন’ ইস্যুতে জরুরি আলোচনার জন্য নোটিশ দিয়েছেন। তবে সীমান্ত পুশ-ইনের মতো জাতীয় ইস্যুটিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘সংবেদনশীল’ আখ্যা দিয়ে নোটিশটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হলেও জামায়াত তা প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এই বিষয়ে সংসদে প্রকাশ্য আলোচনা হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
চলতি বাজেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান একটি বড় সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বছরের শেষ দিকে জুন মাসে এসে তড়িঘড়ি করে অর্থ বরাদ্দ ও তা তাড়াহুড়ো করে ব্যয়ের যে সংস্কৃতি দেশে চালু আছে, তা মূলত আমলাতান্ত্রিক লুটপাটের সুযোগ করে দেয়। তাছাড়া বর্ষাকালে তড়িঘড়ি করে হওয়া রাস্তাঘাটের কোনো কাজের মানও থাকে না। এ কারণে আমরা দেশের প্রচলিত অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার রাষ্ট্রীয় প্রস্তাব দিয়েছি, যা বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেই অত্যন্ত সফলভাবে কার্যকর আছে।
সংসদে ওয়াকআউট ও বর্জন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, "আমরা সরকারের সাথে অকারণ সংঘাত বা ইগোর লড়াইয়ে যাব না। তবে জনগণের কোনো যৌক্তিক দাবি যদি ট্রেজারি বেঞ্চ তথা সরকার সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে, তবে আমরা তার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে পারি। কিন্তু সেটি কখনোই অতীত সরকারের আমলের মতো মাসের পর মাস দীর্ঘমেয়াদি সংসদ বর্জনের রূপ নেবে না।" এছাড়া সংবিধানের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখন সংবিধানের শুধু ধারার সংশোধন নয়, বরং আমূল সংস্কার চায়; এই সংস্কারের জন্য স্বাধীন কমিটি গঠন করা হলে জামায়াত তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, দলটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, সাইফুল আলম খান মিলন, শাহজাহান চৌধুরী, গাজী নজরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যবৃন্দ।