MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
চলতি জুন মাসের ১৬ তারিখ পার হয়ে গেলেও দেশের কোনো মাদ্রাসার শিক্ষক এখন পর্যন্ত মে মাসের সরকারি বেতন পাননি বলে জাতীয় সংসদে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রংপুর-৬ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশন কক্ষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করছিলেন।
বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে সংসদ সদস্য নুরুল আমীন নিজের হাতে ‘মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন দিন’ লেখা একটি বিশেষ প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরেন, যা সংসদ কক্ষে উপস্থিত অন্য সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, "একটা অক্ষরের একটা মধুর শব্দ হলো ‘মা’। তামাম পৃথিবীর সব মধু যেন এই একটি শব্দের মাঝে জড়ানো আছে। এই সংসদে আমাদের এমন অনেকেই আছেন যাদের মা বেঁচে নেই, আমার নিজের মা-ও আজ বেঁচে নেই। আজ সংসদে আসার ঠিক আগমুহূর্তে একজন অবহেলিত মাদ্রাসা শিক্ষক আমাকে ফোন দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি টাকার অভাবে তাঁর অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা পর্যন্ত করাতে পারছেন না।"
তিনি সরকারের প্রতি প্রশ্ন তুলে বলেন, "সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যেক মাসের যদি এক-দুই তারিখের মধ্যে নিয়মিত বেতনের প্রয়োজন হয় এবং আমরা তা দিয়েও থাকি, তবে মাদ্রাসার শিক্ষকদের ক্ষেত্রে কেন এই বৈষম্য? মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহাও পার হয়ে গেল, অথচ আজ মাসের ১৬ তারিখ হয়ে গেলেও মাদ্রাসার কোনো শিক্ষককে মে মাসের বেতনটুকু দেওয়া হয়নি। এটা অত্যন্ত অমানবিক।"
এমপি নুরুল আমীন আরও বলেন, "আমার প্রশ্ন হলো, বেতন তো আমরা দেবই; তাহলে সেটা মাসের শুরুতে দিলে এই সাধারণ শিক্ষকেরা পরিবার নিয়ে একটু উপকৃত হতে পারতেন। আজ আমার মা নেই, একদিন ওই ভুক্তভোগী শিক্ষকের মা-ও হয়তো থাকবে না, কিন্তু এই লোকটা যেন অন্তত মরার আগে এই সান্ত্বনাটুকু নিয়ে বাঁচতে পারেন যে—টাকার অভাবে নয়, বরং আমি আমার মায়ের সুচিকিৎসা করতে পেরেছিলাম। আমি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাননীয় স্পিকার আপনার জরুরি ও যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অবিলম্বে মাদ্রাসার অবহেলিত শিক্ষকদের এই বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।" একই সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকা দেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে দ্রুত জাতীয়করণ বা সরকারিকরণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।